রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

ট্রাম্প-কমলার লড়াইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি

মুহাম্মদ নূরে আলম: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র বাকি দু’দিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (à§« নবেম্বর)। কে নির্বাচিত হবেন, কার জয়ের পাল্লা ভারি- তার কিছুই এখন পর্যন্ত আন্দাজ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সেখানকার নারীরা যদি ব্যাপক হারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং ভোট দেন তাহলে ফল কমলা হ্যারিসের পক্ষে যেতে পারে। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে কারণ অধিকাংশ ভোটারের পছন্দ কমলা, এমনকি ইউরোপীয় নেতাদের পছন্দ কমলা। কিন্তু তার আগে পেনসিলভ্যানিয়াতে ভোটার জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে নতুন করে ভোটের ফল উল্টে দেয়ার যে আশঙ্কা তাকে নিয়ে, তাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তিনি এটা শুধু পেনসিলভ্যানিয়াতেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোতেই করতে পারেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এবারের প্রায় সব জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় সংবাদমাধ্যমগুলো নির্বাচনে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে, যারা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা ভোটের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অতীতে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা ট্রাম্প যদি এ বছরও আগাম জয় দাবি করেন, সেটি প্রতিহত করার কৌশল সাজাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এ দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী দল ও পার্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা ভোটের সঠিক গণনা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি মার্কিন বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বার্তায় এমন কথা জানান ডেমোক্র্যাটরা। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পছন্দ বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান নেতার। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ তার সম্পর্কে বলেছেন, আমি তাকে ভালভাবে জানি। তিনি অবশ্যই একজন ভাল প্রেসিডেন্ট হবেন। ওদিকে ন্যাটোকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেয়ার কথা বলেছেন।

২০২০ সালের নির্বাচনে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। এমনকি তিনি এখনও পর্যন্ত সেই ফল মেনে নেননি আনুষ্ঠানিকভাবে। ফলে ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি তার উস্কানিতে যেমন দাঙ্গা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে, তেমনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবারও। দেখা দিতে পারে সহিংসতা। ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন তাতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, তিনি পেনসিলভ্যানিয়াতে হেরে গেলে ভোটার জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার তার সামাজিক মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি বলেছেন, আমরা তাদেরকে পেনসিলভ্যানিয়াতে বিরাট আকারে চিটিং করতে দেখেছি। এ জন্য তিনি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচার দাবি করেন। ডেমোক্র্যাট কমলা হ্যারিসের একজন সিনিয়র নির্বাচনী কর্মকর্তা এর জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প যে দাবি করছেন সেটা এই নির্বাচনে সন্দেহের বীজ বপন করা এবং প্রতিষ্ঠানকে সন্দেহের চোখে দেখা। তিনি এসব করছেন যখন দেখছেন বিজয়ী হতে পারছেন না। পেনসিলভ্যানিয়ার পলিসি স্ট্র্যাটেজিস্ট কিলি মিলার সতর্ক করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল গেলে সেটাকে তারা উল্টে দেয়ার বীজ বপন করছেন। মিলার বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ২০২০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তার ফলে তারা ধারণা পোষণ করছেন যে, আগে থেকে এ জাতীয় ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশাবাদী যে, ভোটের দিনই (মঙ্গলবার) নিজের জয় ঘোষণা করতে পারবেন। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, বিশেষত যদি প্রধান কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোট পুনর্গণনার দাবি ওঠে।

এ বিষয়ে এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমলা হ্যারিস বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি, যদি ট্রাম্প আগাম জয় দাবি করেন এবং গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে আমরা মার্কিন জনগণের মতামতের জন্য লড়াই করবো। কমলা সরাসরি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশদ কিছু না বললেও, ডেমোক্র্যাট দলের ও তার নির্বাচনী শিবিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি আগাম জয় ঘোষণা করেন, তবে তাদের লড়াই হবে প্রথমেই জনমতের আদালতে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সঠিক ভোট গণনার দাবি জানাতে জোরালো প্রচারণা চালাবেন। কমলার শিবিরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস, ট্রাম্প ভোটের রাতেই জয় ঘোষণা করবেন। যদিও তখনও সব ভোট গণনা সম্পূর্ণ হবে না। তিনি বলেন, তিনি আগেও এটি করেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন; এবারও করলে ব্যর্থ হবেন।

ডেমোক্র্যাটদের মতে, এবার এমন পরিস্থিতিতে যেন সব ভোট গণনার আগে কোনো আগাম ঘোষণা না হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা মাঠে তৎপর। উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলে। এর অধীনে নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করতে বা নির্বাচনের ফল ঘোষণা বিলম্বিত করার সুযোগ আছে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের। ২০২০ সালে ট্রাম্প টিম ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ৬০টি মামলা করে। তার একটিতেও তারা জালিয়াতি প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে আবার যে সেরকম ঘটনা ঘটবে না এর নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য উভয় পক্ষের আইনজীবীরা বিরোধের বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন।  

ট্রাম্প-কমলা ছাড়াও প্রার্থী হিসেবে আছেন যারা: নির্বাচন কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরেই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই দুটি দলের প্রার্থীকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। তবে তারা ছাড়া এবারের নির্বাচনে আরও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। প্রার্থীরা হলেন, à§­à§§ বছর বয়সী শিক্ষাবিদ কর্নেল ওয়েস্ট, ৭৪ বছর বয়সী জিল স্টেইন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী, যুক্তরাষ্ট্রের লিবারটেরিয়ান পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন চেজ অলিভার। ক্লডিয়া দে লা ক্রুজ পার্টি ফর সোশ্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র প্রাথমিকভাবে ডেমোক্র্যাটিক দল থেকে মনোনয়নের জন্য লড়াই করেছিলেন। 

নারীদের অংশগ্রহণ বড় ফ্যাক্টর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে: যুক্তরাষ্ট্রে কঠিনতম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দু’দিন। কে নির্বাচিত হবেন, কার জয়ের পাল্লা ভারি- তার কিছুই এখন পর্যন্ত আন্দাজ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সেখানকার নারীরা যদি ব্যাপক হারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং ভোট দেন তাহলে ফল কমলা হ্যারিসের পক্ষে যেতে পারে। কারণ, বেশির ভাগ নারীর পছন্দ তিনি। নারীরা যে ব্যাপকহারে ভোট দেবেন তার লক্ষণ দেখা গেছে অ্যারিজোনা ও মিশিগানে। সেখানে আগাম ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন যুবতীরা। তাতে কমলা হ্যারিসের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। যদি সারাদেশে এভাবে নারীদের উত্থান ঘটে তাহলে ফল তার পক্ষে যেতে পারে।

অস্বাভাবিক এক সকালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অ্যান আরবোর ক্যাম্পাসের ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছিলেন কয়েক ডজন শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তারা ভোট দিচ্ছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম কিলি গানোং অন্যতম। তিনি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। কমালা হ্যারিসকে ভোট দিতে পেরে তিনি উদ্বেলিত। তিনি বলেন, কমলা ঠিক ওইরকম একজন নেত্রী যিনি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন বলে আমি মনে করি। তার বান্ধবী লোলা নর্ডলিঙ্গার গর্ভপাতের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সব ইস্যুর মধ্যে লিঙ্গ সমতা সবার আগে। একজন নারীর পছন্দের বিষয় হলো যা তার ব্যক্তিগত। এমন সিদ্ধান্ত অন্য কারো পক্ষ থেকে আসা উচিত নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ